ইস্রায়েল ও যিহুদার ইতিহাস - History of Israel and Judah
- amc
- Nov 3, 2020
- 2 min read
".....ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যিহোশাফট যিহুদাকে সুদৃঢ় করেছিলেন...." (2 বংশাবলি 17:1)
প্রশ্ন : ইস্রায়েল আর যিহুদা কি আলাদা? মানে, যিহুদা আলাদা জায়গা নাকি ইস্রায়েলের মধ্যেই যিহুদা? দুটিই যদি ঈশ্বরের মননিত হয়, তাহলে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে কেন? ইস্রায়েল ও তো প্রভুর লোক আবার যিহোশাফট ও প্রভুর লোক.... তাহলে কে কার against এ যুদ্ধ করবে??
উত্তর: উপরের প্রশ্নের উত্তর 4 টি ভাগে বুঝতে হবে... 1. যাকোবের বংশধরেরা মিশরের বন্দিত্ব থেকে বেরিয়ে কনান দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু আমরা জানি, মাত্র 2 জন ছাড়া তাদের কেউই কনানে পৌছাতে পারেনি।
তাহলে প্রশ্ন হলো যাকোবের 12টি বংশের এতো লোক কোথায় গেল? তারা কি সবাই কনানের পথে মারা গিয়েছিলো?
এর সোজা উত্তর - হ্যাঁ! সবাই মারা গিয়েছিল কিন্তু তাদের সন্তানেরা জীবিত ছিল !!
“ঐ সব ইস্রায়েলীয়দের সম্বন্ধেই সদাপ্রভু বলেছিলেন যে, তারা নিশ্চয়ই মরু-এলাকায় মারা পড়বে। আর সত্যিই তাদের মধ্যে যিফূন্নির ছেলে কালেব ও নূনের ছেলে যিহোশূয় ছাড়া আর কেউই বেঁচে ছিল না।” (গণনাপুস্তক 26:65)
যাকোবের (বা ইস্রায়েলের) 12 টি বংশধররা কনানে না গিয়ে, যর্দন নদীর আশেপাশের এলাকা দখল করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে ও বংশবিস্তার করে।
ঐ 12টি গোষ্ঠীর দখল করা বাসভুমি একত্রে “ইস্রায়েল যুক্তরাষ্ট্র” বা “United Kingdom of Israel” নামে পরিচিত হয়! এখনকার 6টি দেশ জুড়ে “ইস্রায়েল যুক্তরাষ্ট্র” বিস্তৃত ছিল। (মিশর, ইস্রায়েল, যর্ডন, লেবানন, প্যালেস্টাইন ও সিরিয়া)।

“ইস্রায়েল যুক্তরাষ্ট্র”এর মধ্যে 10 টি বংশ উত্তরে ও বাকি 2 টি বংশ দক্ষিণ অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।

2. এই “ইস্রায়েল যুক্তরাষ্ট্র” এর প্রথম রাজা হন 'শৌল' (1046 BC)!
"তারপর শমূয়েল একটা তেলের শিশি নিয়ে শৌলের মাথার উপর তেল ঢেলে দিলেন। তিনি তাঁকে চুম্বন করে বললেন, “সদাপ্রভু তাঁর লোকদের উপরে তোমাকে নেতা হিসাবে অভিষেক করলেন।"" (1 শমূয়েল 10:1)
এর পরবর্তী রাজারা হলেন - 'দাউদ' ও 'সলমন'।
930 BC তে সলমনের মৃত্যুর পর ইস্রায়েল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। উত্তরের দশটি বংশ নিয়ে গঠিত হয় নতুন 'ইস্রায়েল' ও দক্ষিণের দুটি বংশ (যিহূদা ও বিন্নামিন) নিয়ে গঠিত হয় 'যিহূদিয়া'।

ইস্রায়েল এর নতুন রাজধানী হয় প্রথমে 'শিখিম' ও পরে 'শমরিয়া'তে। এবং যিহূদিয়ার নতুন রাজধানী হয় 'জিরূশালেম'। এখন থেকে 'ইস্রায়েল' ও 'যিহূদিয়া' দুটি সম্পূর্ণ আলাদা রাষ্ট্র।

3. আকার ও প্রতিপত্তির দিক থেকে ইস্রায়েল, যিহূদিয়ার থেকে বেশী শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ইস্রায়েল ঈশ্বরের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছিল। 'অসুর' রাজাদের দ্বারা ইস্রায়েল ও যিহূদিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যিহূদিয়া কোনোরকমে বেঁচে যায়।
722 BC তে অসুরিয় (Assyrians) দের হাতে ইস্রায়েল ধ্বংস হয়ে যায়! এর পরে যত রাজা ইস্রায়েল শাসন করেছে, সবাই পাপী ও খারাপ ছিলো। যেমন রাজা আহাব।
(1 রাজাবলি 15:34, 1 রাজাবলি16:30-33)
ঐ সময় যিহূদিয়ার রাজারা (যেমন- হিস্কীয় ও যিহোশাপট) ঈশ্বরের অনুগামী ছিল তাই অসুর রাজ, যিহূদিয়ার তেমন একটা ক্ষতি করতে পারেনি।
যেহেতু ইস্রায়েল ইশ্বরের বিরুদ্ধে গিয়েছিল, তাই ইস্রায়েল ও যিহূদিয়া পরস্পর বিরোধী হয়ে ওঠে।
".....ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যিহোশাফট যিহুদাকে সুদৃঢ় করেছিলেন...." (2 বংশাবলি 17:1)
4. পরে যিহূদার রাজারাও ইশ্বরের চোখে পাপ করেন, তাই ইশ্বর যিহূদিয়াকেও শাস্তি দিলেন। 597/587 BC তে ব্যাবিলনীয় রাজা 'নবুখদনিৎসর' যিহূদিয়া আক্রমণ করে ও দখল করে
(2 রাজাবলী 24:4-25:30, 2 বংশাবলী 36:6)।
___written by Rev. Apurba Man.
এখানে ভালোবাসার উপহার পাঠান:
UPI: amc@airtel
(তথ্যসূত্র -পবিত্র বাইবেল, উইকিপিডিয়া ও গুগল)
Comments